অসাধারণ মানুষ

রবীন্দ্ৰনাথ কখনো আগে গান লিখতেন, পাবে সুর করতেন, আবার কখনো গান ও সুর এক সঙ্গে রচনা করতেন। কিন্তু সমস্যা একটাই-কবি কিছুতেই সুর মনে রাখতে পারতেন না। তাই তৈরী হওয়া সেই নতুন গান কাউকে শেখানোর জন্য তিনি চিৎকারে বাড়ি মাথায় করতেন। কাউকে শেখানো মানে, তার ওপর সুর মনে রাখার দায়িত্ব পড়ে যেত। একদিন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে একটি নতুন গানে সুর বসিয়ে কবি বারান্দায় পায়চারি করতে করতে চিৎকার করে ডাকতে লাগলেন, ‘অমলা, অমলা, গানটা শিগগির এসে শিখে নাও, নাহলে এক্ষুনি ভুলে যাব।’

কবির ডাক শুনে আমলা ছুটে আসেন এবং গানটা শিখে নেন। আমলা দাস ছিলেন দেশবন্ধু চিত্তরঞ্জন দাসের বোন। কবিপত্নী মৃণালিণী দেবী কবির চেঁচামেচি শুনে কাজ ফেলে ছুটে আসেন ও কবির রকম সকম দেখে হাসতে হাসতে বলেন, ‘ও অমলা, এমন মানুষ কখনো দেখছ, যে নিজের দেওয়া সুর ভুলে যায়?’

এ কথা শুনে আমলাও হাসেন। তাই দেখে রবীন্দ্রনাথ মৃণালিণী দেবীকে রসিকতা করে বলেন, ‘ছোটবউ, অসাধারণ মানুষের সব কিছুই অসাধারণ হয়, বুঝলে? তুমি তো আর আমাকে চিনলে না!’

কবির কথা শুনে মৃণালিণী দেবী আরও হাসতে হাসতে বলেন, ‘তাই নাকি?’

%d bloggers like this: