কবীন্দ্ৰ

কবিগুরু একবার তার জন্মদিনে কালিম্পং-এ মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে অতিথি হয়ে আছেন। কবির জন্মদিন বলে কথা। হৈ হৈ ব্যাপার। কত লোক আসছেন। সকাল থেকে কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে। দুপুরে পিয়ন এসে কবির নামে অনেক ডাক দিয়ে গেল। তাতে জন্মদিন সংখ্যার কিছু পত্রপত্রিকা, কিছু উপহার, কিছু চিঠি, শুভেচ্ছা, কবিতা। রবীন্দ্ৰনাথ সেগুলো দেখতে দেখতে লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীকে বললেন, ‘কই, তুমি তো একটাও কবিতা লিখলে না? আমি বেশ কিছুদিন থেকেই লক্ষ্য করছি আমার প্রতি তোমার ভক্তি অসম্ভব দ্রুত কমে যাচ্ছে! ওই তো টেবিলে কাগজ কলম রয়েছে, তাড়াতাড়ি ‘হে রবীন্দ্ৰ কবীন্দ্ৰ’ ব’লে একটা কবিতা লিখে ফেল। দাখো, আমার নামটা কেমন সুবিধের। অন্তত কবিদের জন্য তো বটেই। আমার নামের সঙ্গে মিলের জন্য হাপিত্যেস করতে হবে না। রবীন্দ্রর সঙ্গে কবীন্দ্ৰ মিল লাগিয়ে দিলেই কবিতা হয়ে যাবে। নয় কি?’

কবির কথা শুনে মৈত্ৰেয়ী দেবী হাসলেন ও কবিকে প্ৰণান করে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানালেন।

%d bloggers like this: