পৈতেগাছা ও রাঁধুনি

ডিরোজিওর ছাত্র ছিলেন রামতনু লাহিড়ী। তিনি ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল-এর সভ্য। এক সময় বিদ্যাসাগরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। রামতনু একবার পিতার নিষেধ অমান্য করে ব্ৰাহ্ম হয়ে কাশীতে গিয়ে পৈতে ফেলে আসেন। এমনকি পিতার সঙ্গে তর্ক করে আলাদা গৃহে বাস করতে শুরু করেন। এমনই এক সময় বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা হতে রামতনু বললেন, ‘ওহে বিদ্যাসাগর, তুমি আমাকে একটা রাঁধুনি যোগাড় করে দিতে পারো ? রাঁধুনি যেন বামুন হয় – বুঝলে ?’

বিদ্যাসাগর বললেন, ‘কেন হে, তোমার আবার বামুনের দরকার কেন? বাবুর্চি খানসামা হলেও তো চলে ।’

রামতনু বললেন, ‘হ্যাঁ, আমার ওতে কোনো আপত্তি নেই বটে, কিন্তু বাড়ির ভেতর বামুন ছাড়া যে চলবে না।’

বিদ্যাসাগর হাসতে হাসতে এবার বললেন, ‘বাপের কথায় পৈতেগাছােটা রাখতে পারলে না। এখন পরিবারের কথায় বেরিয়েছ বামুন খুঁজতে ?’

রামতনু বিদ্যাসাগরের খোঁচটা বুঝতে পারলেন।