মধুর সন্ধ্যা-আহ্নিক

মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম প্রথম যখন প্রহসন ও নাটক লেখা শুরু করেন, তখন তিনি অফিসের কাজ অর্থাৎ পুলিশ-আদালতের কাজ বোলা প্ৰায় চারটের মধ্যে পাট চুকিয়ে চলে যেতেন পাইকপাড়ার রাজবাড়িতে। কী হত সেখানে ? রাজাদের সঙ্গে তিনি সেখানে রঙ্গরসিকতা, সরস কথোপকথনে, কাব্য, নাটক বিষয়ক আলোচনা ও নাট্য রচনা করে সময় কাটাতেন। তার উপস্থিতি রাজারা বেশ উপভোগ করতেন।

একদিন সন্ধ্যায় মহাকবি লিখতে লিখতে হঠাৎ কলম থামিয়ে রাজার উদ্দেশ্যে হেসে হেসে বললেন, ‘রাজামশাই, আমার সন্ধ্যা-আহ্নিকের সময় হল যে, সন্ধ্যা আহ্নিকের ব্যবস্থা করুন।’

মধুকবির কথা শুনে অবাক রাজা ভাবলেন, এ কী বলে! খ্ৰীষ্টানের আবার সন্ধ্যা-আহ্নিক কী?

তখন মধুসূদন হাসতে হাসতে রাজা ঈশ্বরচন্দ্ৰকে বললেন, ‘গেলাশরূপ কোশায় দুই আউন্স পেগরূপ গঙ্গাজল, আচমন কার্য সমাপন করে আহ্নিককৃত অনুষ্ঠান করতে হবে।’

রসিকতা রসিকতা শুনে রাজা হাসতে হাসতে কবির অপরূপ সন্ধ্যা-আহ্নিকের ব্যবস্থা করলেন।