মৃণালিণীর রেসিপি

খাদ্যরসিক রবীন্দ্ৰনাথ খাদ্য নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। অবশ্য ঝক্কি ঝামেলার বেশিরভাগটাই সামলাতে হত। কবিপত্নী মৃণালিণী দেবীকেই। কবি নানা ধরণের মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। মৃণালিণী দেবী সেই সব মিষ্টি তৈরী করতেন। কখনো দইয়ের মালপো, চিড়ের পুলি, কখনো আমের মিঠাই। একবার কবির ‘ভাই ছুটি’ বা ‘ছোটবউ’ মৃণালিণী দেবী গজার এক নতুন সংস্করণ তৈরী করেন। যা খেতে অত্যন্ত সুস্বাদু। কবি এর নাম দিলেন ‘পরিবন্ধ’। কবি একবার মৃণালিণীকে মানকচুর জিলিপি তৈরী করতে বলেন। সেটি সাধারণ জিলিপির থেকেও সুস্বাদু হয়। একবার চিকিৎসা বিদ্যার গবেষক বাসুবিজ্ঞান মন্দিরের সদস্য ডাঃ জ্যোতিপ্ৰসাদ সরকার শান্তিনিকেতনে এলে কবি তাকে চায়ের টেবিলে নিমন্ত্রণ করে পাস্তুয়া খাওয়ান। জ্যোতিপ্ৰসাদ মিষ্টি বড় ভালবাসতেন। তাই থালা ভর্তি পাস্তুয়া শেষ করতে সময় নিলেন না। কবি তাকে জিগ্যেস করলেন, ‘কিসের পান্তুয়া খেলে বলো তো ভাই?’

জ্যোতিপ্ৰসাদ বললেন, ‘নিশ্চই ছানার!’

কবি তখন হেসে বললেন, ‘ঠকে গেলে বন্ধু, ওগুলো ওলের তৈরী। মৃণালিণীর রেসিপি।

কবির কথা শুনে জ্যোতিপ্ৰসাদ অবাক।

%d bloggers like this: