মেঘনাদবধ কাব্যের পাঠক

সেই সদ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’। একদিন মেঘনাদবধ কাব্য’-র স্রষ্টা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোনো এক বিশেষ কাজের জন্য গিয়েছিলেন বাজারে। সেখানে দেখলেন এক অদ্ভুৎ দৃশ্য! কী দৃশ্য ? কবি দেখলেন এক সাধারণ দোকানদার তার সামনে বসে মন দিয়ে ‘মেঘনাদবধ, কাব্য পাঠ করছেন!
কৌতুহলাবিষ্ট হয়ে রহস্যপ্রিয় কবি সেই দোকানে ঢুকে দোকনাদারকে জিগ্যোস করলেন, ‘মশাই, কী বই পড়ছেন?’
দোকানদার বই থেকে মুখ তুলে বললেন, ‘আজ্ঞে এ একখানি নতুন কাব্য।’ রসিক মধুসূদন বললেন, ‘কাব্য পড়ছেন? বাংলা সাহিত্যে তো তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য কবিতাই নেই, তা আবার কাব্য! হাঃ!’
দোকানদার মাইকেলকে বুঝিয়ে বললেন, ‘সে কী মশাই, এই একখানি মাত্ৰ কাব্যই তো যে কোনো জাতির ভাষাকে গৌরবান্বিত করতে পারে।’
হেসে মধুসূদন বললেন, ‘তাই নাকি মশাই, তা এটা কী রকম কাব্য একটু পড়ুন তো দেখি, শুনি।’
মধুসূদনের কথা শুনে দোকানদার সাহেববেশী মাইকেলের দিকে সন্দেহের দৃষ্টিতে তাকিয়ে ঠোঁট বেঁকিয়ে বললেন, ‘আমার মনে হয় আপনি এই বইয়ের ভাষা ঠিক বুঝতে পারবেন না। শুনে কী কোনো লাভ হবে?’
মাইকেল বললেন, ‘কেন মশাই, এর ভাষা বুঝি খুব কঠিন ? তা হােক না, একবার চেষ্টা করে দেখতে দোষ কী ?’
নাছোড় মাইকেলের কথা অগ্রাহ্য না করতে পেরে অগত্যা সেই কাব্যপ্রিয় দোকানদার ‘মেঘনাদবধ কাব্য’ জোরে জোরে পাঠ করে শোনাতে লাগলেন। কিন্তু ঘুণাক্ষরেও চিনতে পারলেন না সম্মুখে দাঁড়িয়ে থাকা স্বয়ং কবিকে। কবিও সারাক্ষণ রসিকতা করে গেলেন, কিন্তু নিজের পরিচয় দিলেন না।