শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় তখন খ্যাতির শীর্ষে। অন্যদিকে একই নামে আরেকজন পণ্ডিত ছিলেন ওপার বাংলায়, তার নাম শরৎচন্দ্র পণ্ডিত, তিনি আবার দাদাঠাকুর নামে ছড়া লিখে খ্যাতির শিখরে। এদিকে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ও চরিত্রহীন উপন্যাসটির কল্যাণে চারদিকে দারুণ জনপ্রিয়। দাদাঠাকুর একটি পত্রিকা সম্পাদনা করতেন, যার নাম বিদূষক। একদিন এক অনুষ্ঠানে দুই শরৎচন্দ্রই ছিলেন আমন্ত্রিত। ইতিমধ্যে দুজনই দুজনের নামের সঙ্গে বেশ পরিচিত কিন্তু সামনাসামনি কেউ কাউকে এর আগে দেখেননি। পরিচয়পর্বে শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় রসিকতা করার লোভটা আর সংবরণ করতে পারলেন না। তিনি বললেন, ‘ও, তাহলে আপনিই বুঝি বিদূষক শরৎচন্দ্র!’
দাদাঠাকুরও কম রসিকতা জানতেন না। তিনি পাল্টা বললেন, ‘আজ্ঞে হ্যাঁ। আপনি নিশ্চয় চরিত্রহীন শরৎচন্দ্র?’

সূত্রঃ প্রথম আলো, অক্টোবর ২৭, ২০০৮