সাগরের নোনা জল

পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর ছিলেন পুরোপুরি আধুনিক চিন্তা মনস্ক ব্যক্তি। কোনো রকম গোঁড়ামো তার ছিল না। তাই দেবতা নয়, তিনি বড় করে দেখতেন মানুষকেই। তিনি ছিলেন ব্ৰাহ্মাণ সন্তান। তাঁর পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কোনভাবেই তাঁর পূজােৰ্চনায় মন ছিল না।

এহেন ব্যক্তির প্রতি আকৃষ্ট হন শ্ৰীরামকৃষ্ণদেব। বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা করার জন্য তিনি উৎসাহী হয়ে উঠেছিলেন। তাই একদিন রামকৃষ্ণদেব নিজেই এলেন বিদ্যাসাগরের কাছে। রামকৃষ্ণদেবকে দেখে আনন্দিত অতিথিপরায়ণ বিদ্যাসাগর যথাসম্ভব যত্ন করে আপ্যায়ন করলেন। কোনো ত্রুটি রাখলেন না। বিদ্যাসাগরকে রামকৃষ্ণদেব হাসতে হাসতে বললেন, ‘ওহে, তুমি তো আর খানাডোবা নও, তুমি হলে বিদ্যারসাগর। তাই তোমাতে ডুব দিতে এলুম।’

ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের রঙ্গ রসিকতা রামকৃত্যুষ্ণদেবের কথা শুনে মুচকি হেসে রসিকতা করে বিদ্যাসাগর বললেন, ‘রামকৃষ্ণদেব, আপনি ডুব দিতেই যখন এসেছেন তখন সাগরের নোনা জলও একটু খেয়ে যান ।’

%d bloggers like this: