বিষয়বস্তু

হাঁড়ি

হাঁড়ি শ্ৰীরামকৃষ্ণ পরমহংসদেব খুব আনন্দ পেতেন নব্যযুবকদের দেখলে। তিনি বলতেন, 'আহো! বড় ভালো লাগে ওদের দেখলে। আমি তো ওদের মধ্যে কামিনী-কাঞ্চনের মোহ দেখতে পাই না, দেখতে পাই না বিষয় বুদ্ধির লোভ। আর সেই কারণেই তো। ওরা পবিত্র, শুদ্ধ। প্রকৃত অর্থে ওরা হল নিত্য সিদ্ধ। তাই তো...

বৈষ্ণব পাঠক

বৈষ্ণব পাঠক কবি মধুসূদন 'ব্ৰজাঙ্গনা কাব্য’ রচনা করেন সুহৃদ ভূদেব-এর বিশেষ অনুরোধে। বৈষ্ণবপাঠকগণ মহাজন পদাবলীর মতো মধুসূদন রচিত প্রাণমনোহারিনী কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এক পরম বৈষ্ণব এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি সুদূর নবদ্বীপ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন শুধুমাত্র কবি...

আমাদের লাইন

আমাদের লাইন একদিন 'নীলদর্পণ' নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্ৰ মধুসূদনের বাড়িতে এসেছেন নাট্য-আলোচনা করতে। আলোচনা জমে উঠেছে। সেই সময় কুচবিহারের মহারাজার সঙ্গীতগুরু মাইকেলের বাড়িতে এলেন। তিনি মাইকেলের ‘শৰ্মিষ্ঠা’ নাটকে অভিনয় করছেন। মধুসূদন সেই সঙ্গীতগুরুর সঙ্গে...

শেক্‌সপীয়র ও নিউটন

শেক্‌সপীয়র ও নিউটন তখন মধুসূদন হিন্দু কলেজের ছাত্র। মেধাবী ছাত্র হলেও গণিত চর্চা তাঁর ভালো লাগতো না। তাঁর পছন্দ ছিল সাহিত্যচর্চা। একদিন ভূদেবসহ অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে শেক্সপীয়র ও নিউটনের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ - তাই নিয়ে জোর তর্ক হয়। কবি মধুসূদন শেকসপীয়রের পক্ষ নিয়ে...

কুরুক্ষেত্র রণে

কুরুক্ষেত্র রণে ব্যারিস্টার মাইকেল মধুসূদন একদিন হাইকোর্টে যাবার জন্য ঘোড়ার গাড়িতে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান এবং বেশ আঘাত পান। বেশ কিছুদিন কবিকে শয্যাশায়ী হয়ে থাকতে হয়। সিউড়ির জমিদার দাক্ষিণারঞ্জণ মুখোপাধ্যায় একদিন কবি-ব্যারিস্টার মধুসূদনকে দেখতে গিয়ে...

শহরের বামুনপাড়া

শহরের বামুনপাড়া দীর্ঘদিন ইউরোপে থাকার পর মধুসূদন ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে কলকাতায় ফিরে আসেন। কলকাতায় এসে কবি গবৰ্ণমেন্ট হাউসের পশ্চিম দিকে ব্যয়বহুল স্পেনসেস হােটেলে বাসস্থান ঠিক করেন। এই হােটেলে তিনি ছিলেন প্রায় আড়াই বছরের মত। কলকাতায় আসার কিছুদিন...

সোনার হুঁকো

সোনার হুঁকো পাইকপাড়া রাজবাড়িতে কোনো এক সময় একজন ব্ৰাহ্মণ পণ্ডিতের মহতী সভার আয়োজন করা হয়। অতিথিদের জন্য এই সময় বহু সোনা ও রূপার হুঁকো বার করা হয়। মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের জন্যও এলো একটা সুন্দর সোনার হুঁকো। সভা তখন বেশ জমে উঠছে। চেনা-অচেনা বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গের...

মধুর সন্ধ্যা-আহ্নিক

মধুর সন্ধ্যা-আহ্নিক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম প্রথম যখন প্রহসন ও নাটক লেখা শুরু করেন, তখন তিনি অফিসের কাজ অর্থাৎ পুলিশ-আদালতের কাজ বোলা প্ৰায় চারটের মধ্যে পাট চুকিয়ে চলে যেতেন পাইকপাড়ার রাজবাড়িতে। কী হত সেখানে ? রাজাদের সঙ্গে তিনি সেখানে রঙ্গরসিকতা, সরস...

বকুল ফুল

বকুল ফুল মধুসূদনের বাড়িতে নিয়মিত আড্ডার আসর বসত। একদিন কবি তার বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশের কবিদের কথা আলোচনা করছিলেন। মধুকবির অত্যন্ত শ্রদ্ধা ছিল কবি কাশীরাম দাসের ওপর। আলোচনা প্রসেঙ্গ কাশীরাম দাসের কথা উঠলে মধুসূদন বলেন, 'কাশীরাম দাসের সমান কবি আমাদের...

খাঁটি বাঙাল

খাঁটি বাঙাল মহাকবি মাইকেল একবার বেড়াতে গিয়েছিলেন ঢাকা শহরে। সেখানকারী কিছু নব্যযুবক তাঁকে একদিন আমন্ত্রণ জানান এক সাহিত্য সভায়। সেই সভায় সেই নব্যযুবকের দল মাইকেলের উদ্দেশ্যে বলেন, 'হে কবিবর, আপনার বিদ্যাবুদ্ধি মমতা প্রভৃতির দ্বারা আমরা যেমন মহাগৌরবান্বিত হই, তেমনি...

কোকিল

কোকিল মহাকবি মাইকেল ছিলেন সুপুরুষ ও সৌখিন। তাঁর গায়ের রঙ যদিও ছিল কালো। প্রথম দিকে মধুকবির কণ্ঠস্বরটিও ছিল মধুর। কিন্তু মাদ্রাজের এক হিমশীতল জলে স্নান করে মধুকবির মধুময় কণ্ঠস্বর চিরদিনের মত বিকৃত ও ভগ্ন হয়ে যায়। একে গায়ের রঙ কালো, তার উপর ভাঙা গলা। কোনো কোনো...

হরদ্বারের গঙ্গাজল

হরদ্বারের গঙ্গাজল মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত পেশায় উকিল ছিলেন। একদিন দুপুরবেলায় কাজের ফাঁকে তিনি বার-লাইব্রেরিতে বসে একটু বিশ্রাম করছিলেন। এমন সময় তাঁর এক পরিচিত উকিল বন্ধু হাসতে হাসতে এসে তাঁকে বললেন, ‘কবিমশাই, মেঘনাদবধের নরক বর্ণনাটা নিশ্চয়ই আপনি মিল্টন-এর থেকে...

মেঘনাদবধ কাব্যের পাঠক

মেঘনাদবধ কাব্যের পাঠক সেই সদ্য প্রকাশিত হয়েছে 'মেঘনাদবধ কাব্য’। একদিন মেঘনাদবধ কাব্য’-র স্রষ্টা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোনো এক বিশেষ কাজের জন্য গিয়েছিলেন বাজারে। সেখানে দেখলেন এক অদ্ভুৎ দৃশ্য! কী দৃশ্য ? কবি দেখলেন এক সাধারণ দোকানদার তার সামনে বসে মন দিয়ে...

গোপালায় নমোহস্তু মে

গোপালায় নমোহস্তু মে তখন ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। পণ্ডিত জয়গোপাল তর্কালঙ্কার তাদের সংস্কৃত কাব্যশাস্ত্র পড়াতেন। একদিন তিনি শ্রেণীকক্ষে পাঠ নিতে এসে ছাত্রদের বললেন, 'তোমরা সবাই 'গোপালায় নমোহস্তু মে’-এই বাক্যটি দিয়ে একটি চার লাইনের শ্লোক রচনা...

সাগরের নোনা জল

সাগরের নোনা জল পন্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর ছিলেন পুরোপুরি আধুনিক চিন্তা মনস্ক ব্যক্তি। কোনো রকম গোঁড়ামো তার ছিল না। তাই দেবতা নয়, তিনি বড় করে দেখতেন মানুষকেই। তিনি ছিলেন ব্ৰাহ্মাণ সন্তান। তাঁর পদবী বন্দ্যোপাধ্যায়। কিন্তু কোনভাবেই তাঁর পূজােৰ্চনায় মন ছিল না।...

দুরবস্থা

দুরবস্থা ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর একদিন নিজের বৈঠকখানায় ব’সে অন্তরঙ্গ বন্ধুবান্ধবের সঙ্গে রঙ্গ রসিকতায় মেতে আছেন। তার মাঝে উঠছে সমাজ সংস্কারমূলক বিভিন্ন প্রসঙ্গ। এমন সময় এক বৃদ্ধ ব্যক্তি ঘরে ঢুকলেন। তাঁর পরণে ময়লা পোশাক। তিনি করজোড়ে বিদ্যাসাগরকে বললেন, 'বড়...

গৃহিনী রোগ

গৃহিনী রোগ এক বন্ধুর সঙ্গে দেখা হতে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বললেন, 'কী হে বন্ধু, তোমরা আজকাল প্রচার করে বেড়ােচ্ছ আমার নাকি গৃহিনী রোগ হয়েছে?' অবাক বন্ধুটি বললেন, 'ঠিক বুঝলাম না তোমার কথা।' বিদ্যাসাগর তখন হাসতে হাসতে বললেন, 'তবে তোমায় বুঝিয়ে বলি। আজ একটি লোক আমার...

বিবাহ বাসর

বিবাহ বাসর নিজের বিবাহ বাসরকে রঙ্গ-রসিকতায় ভরিয়ে তুলেছিলেন বিদ্যাসাগর। কী রকম ? বন্ধুদের কাছে ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর বলেন, ‘বিয়ের পর বাসরে প্রবেশ করা মাত্র কনে পক্ষের রমণীরা আমাকে বলে--বর, তোমার কনে তুমি নিজেই খুঁজে নাও। মুশকিলে পড়লাম। শেষমেষ ঐ মেয়ে-দঙ্গলের ভেতর...

খাদ্য রসিক

খাদ্য রসিক বিদ্যাসাগর খেতে ও খাওয়াতে খুবই ভালবাসতেন। কখনো কখনো তিনি অতিথিদের নিজের হাতে রান্না করে খাওয়াতেন। খাদ্যসামগ্ৰী পরিবেশনের সময় তিনি ছড়া কেটে বলতেন: 'হুঁ হুঁ দেয়ং হাঁ হাঁ দেয়ং দেয়ঞ্চ করকম্পনে শিরসি চালনে দেয়াং ন দেয়ং ব্যাঘ্ৰঝম্পনে ৷' অতিথিরা স্বভাবতই...

পৈতেগাছা ও রাঁধুনি

পৈতেগাছা ও রাঁধুনি ডিরোজিওর ছাত্র ছিলেন রামতনু লাহিড়ী। তিনি ছিলেন ইয়ং বেঙ্গল-এর সভ্য। এক সময় বিদ্যাসাগরের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা হয়। রামতনু একবার পিতার নিষেধ অমান্য করে ব্ৰাহ্ম হয়ে কাশীতে গিয়ে পৈতে ফেলে আসেন। এমনকি পিতার সঙ্গে তর্ক করে আলাদা গৃহে বাস করতে শুরু করেন।...

Page 2 of 24312345...102030...Last »

অলটাইম হিট