বিষয়বস্তু

ময়ান

ময়ান বিদ্যালয় পরিদর্শক বিদ্যাসাগর একবার গ্রামের এক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গেছেন। সেখানে এক সাধারণ মধ্যবিত্ত গৃহস্থ বিদ্যাসাগরকে তাঁর গৃহে দুপুরের আহার করবার নিমন্ত্রণ জানালেন। গৃহন্থের অনুরোধ উপেক্ষা করতে পারলেন না বিদ্যাসাগর। তিনি নিমন্ত্রণ গ্রহণ করলেন ও খেতে বসে...

একগুঁয়ে এঁড়ে বাছুর

একগুঁয়ে এঁড়ে বাছুর বিদ্যাসাগর ছেলেবেলা থেকেই ছিলেন খুব একাগুঁয়ে। তিনি যা ভালো মনে করতেন তা তিনি প্ৰাণপণে করতে চেষ্টা করতেন। কখনো কখনো তিনি ঠিক উল্টো কাজ করতেন বলে জানা যায়। যেমন, তাকে স্নান করতে নিষেধ করা হলে তিনি জোর করে স্নান করতেন। আবার স্নান করতে বলা হলে সেদিন...

মৃত্যুর পর স্বর্গবাস

মৃত্যুর পর স্বর্গবাস ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর নানা ধরনের ব্যক্তির সঙ্গে মেলামেশা করতেন। তার এক পরিচিত ব্যক্তি হঠাৎ প্ৰথমা পত্নীর বিয়োগের পরেই আবার বিবাহ করলেন। ব্যক্তিটির দ্বিতীয় বিবাহের পর একদিন বিদ্যাসাগরের সঙ্গে দেখা। বিদ্যাসাগর তাঁকে হাসতে হাসতে বললেন, 'বন্ধু...

নতুন উপাধি

নতুন উপাধি ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর রাজদরবারে নতুন উপাধি পেয়েছেন। এই উপাধি পাওয়ার খবর গ্রামে গ্রামে ছড়িয়ে পড়ল। যারা তাঁকে পছন্দ করতেন তাঁরা খুশি হলেন, যাঁরা তাঁকে অপছন্দ করতেন তাদের মুখভার হল। বিদ্যাসাগরের কোনো কিছুতেই যায় আসে না। তিনি সদাই উদাসীন। তাঁর উপাধি...

নিরামিষাশী

নিরামিষাশী বিদ্যাসাগরের পিতা ঠাকুরদাস তাঁর ছোটছেলে ঈশানচন্দ্র ও বড় নাতি নারায়ণ (বিদ্যাসাগরের পুত্ৰ) কে অত্যন্ত স্নেহ করতেন। তাঁর মেহের বহর এতটাই ছিল যে, কেউ এই দু’জনকে শাসন করতে সাহস পেত না। বিদ্যাসাগর একদিন তাঁর পিতাকে বললেন, 'বাবা, আপনি তো নিরামিষাশী। কিন্তু এই যে...

বলিদান

বলিদান ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর তপন বিটন কলেজের সেক্রেটারি। অনেক উচ্চপদস্থ সাহেবও তখন কমিটির সদস্য। এক ফিরিঙ্গি ভদ্রমহিলা তখন প্রধান শিক্ষয়িত্রী ছিলেন । কোনো বিশেষ কারণে ঐ ভদ্রমহিলা কলেজের এক পণ্ডিতের ওপর বিরূপ ছিলেন। ভদ্রমহিলা কমিটিকে অনুরোধ করেন যে, পণ্ডিতকে পদচ্যুত...

সরস্বতী পূজা

সরস্বতী পূজা ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর তখন সংস্কৃত কলেজের ছাত্র। তাঁদের কাব্যশাস্ত্রর অধ্যাপক ছিলেন জয়গোপাল তর্কলংকার; তিনি সরস্বতী পুজো উপলক্ষে ছাত্রদের একটি শ্লোক লিখতে বললেন। ছাত্রদের তিনি এই রকম শ্লোক মাঝেমাঝেই লিখতে বলতেন। ছাত্র ঈশ্বরচন্দ্ৰ জয়গোপালের কথায় শ্লোক...

ব্রাহ্মণ বনাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর

ব্রাহ্মণ বনাম ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগর ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরের কাছে সবধরনের মানুষ দেখা করতে আসতেন। ব্রাহ্মণেরা যেমন আসতেন, তেমন অব্রাহ্মণরাও আসতেন। একদিন বিদ্যাসাগরের সঙ্গে এক ব্ৰাহ্মাণ দেখা করতে এলেন। সেই ব্ৰাহ্মাণ ছিলেন গোঁড়া। তিনি অন্যান্যদের প্রণাম পাওয়ার রীতিতে...

স্নানপর্ব

স্নানপর্ব রায় বাহাদুর কালিপ্ৰসন্ন ঘোষ ছিলেন 'বান্ধব’ পত্রিকার সম্পাদক। তিনি একবার এসেছেন বিদ্যাসাগরের বাড়িতে। গৃহস্বামী বিদ্যাসাগর অতিথির আপ্যায়নের ত্রুটি রাখলেন না। বিভিন্ন পদের খাবার রান্না হল কালিপ্ৰসন্নর জন্য। কালিপ্ৰসন্ন স্নান করবেন। এই সময় বিদ্যাসাগর একটু...

প্রাচীন আচার

প্রাচীন আচার পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর বহুবিবাহ-বাল্যবিবাহ সহ নানা রকম সামাজিক কুসংস্কার রোধ করার জন্য এগিয়ে এসেছিলেন। তিনি স্ত্রী শিক্ষা বিস্তারে সচেষ্ট ছিলেন। তাই চারিদিকে বালিকা বিদ্যালয় স্থাপন করেছিলেন। এইসব সামাজিক কাজে তিনি সদা ব্যস্ত থাকতেন । এমনই এক সময়...

বিদ্যালয় পরিদর্শক

বিদ্যালয় পরিদর্শক পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর ছিলেন দেশের প্রথম বিদ্যালয় পরিদর্শক। এই কাজে তাকে বিভিন্ন বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে যেতে হত। একবার এক বিদ্যালয় পরিদর্শন করতে গিয়ে শ্রেণীকক্ষে ঢুকে তো তার চক্ষু চড়কগাছা! কী কারণ ? একটা লম্বা বেত রাখা শিক্ষকমহাশয়ের...

শুঁড় তোলা চটি

শুঁড় তোলা চটি ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর নিয়মিত বিভিন্ন সাহিত্য সভায় যেতেন। এক সাহিত্য সভায় তার দেখা হল সাহিত্যসম্রাট বঙ্কিমচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে। বঙ্কিমের পরণে সৌখিন পোশাক । কিন্তু বিদ্যাসাগরের সেই চির পরিচিত বেশ । গায়ে খন্দরের চাদর এবং পায়ে এক জোড়া শুঁড়...

ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের ভোজন সভা

ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের ভোজন সভা ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর ছিলেন অত্যন্ত ভোজন রসিক। খেতে এবং খাওয়াতে তিনি বড় ভালবাসতেন। তিনি কয়েকজন অন্তরঙ্গ বন্ধুকে নিয়ে 'ভোজন সভা’ নামে একটি সংস্থা গড়ে তুলেছিলেন। সংস্থার সভ্য ছিল তা প্ৰায় জনাদশেক। কী কাজ ছিল এই সংস্থার ? ঘনিষ্ঠ...

গরু ও গুরু

গরু ও গুরু পণ্ডিত ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগর মহাশয়ের বিদ্যালয়ের এক পণ্ডিত একবার কতগুলি নিম্নমানের নীতিকথা জাতীয় কবিতা রচনা করে বিদ্যাসাগরকে দেখান। কবিতাগুলি পড়ে বিদ্যাসাগর বিরক্ত হন। কেমন লাগল। কবিতাগুলি ? সেই পণ্ডিতের প্রশ্ন শুনে কবিতাগুলির শেষে রসিকতা করে বিদ্যাসাগর...

কবির সুহৃদ

কবির সুহৃদ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের সুহৃদ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একসময় খুবই আর্থিক অনটনে পড়েছিলেন। তখন তিনি বিদেশে। বিদেশে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন কবি, এই খবর কানে এল বিদ্যাসাগরের। তিনি শুধু বিদ্যাসাগর নন, দয়ারসাগারও। মাইকেলের...

বাঁধানো বই বনাম দামী শাল

বাঁধানো বই বনাম দামী শাল ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের সখ ছিল বইপত্র ভালো করে বাঁধিয়ে রাখা। যাতে বই নষ্ট না হয়ে যায়, তাই এত যত্নে রাখতেন । একবার এক ধনীব্যক্তি এসেছেন বিদ্যাসাগরের কাছে। তার ইচ্ছা, বিদ্যাসাগরের বইগুলি একবার দেখবেন। এই ইচ্ছা প্ৰকাশ করা মাত্র বিদ্যাসাগর তার...

বন্ধুর উপত্যকা দর্শন

বন্ধুর উপত্যকা দর্শন মেয়েটি চটুলা এবং রূপসী। পুরুষ বন্ধুকে নিয়ে সে রেস্তোঁরায় খেতে গেছে । গলায় ঝুলছে চমৎকার একটি সোনার চেন । তাতে একটি মেষ বা ভেড়ার মূতি আঁকা ছোট্ট লকেট। সেই লকেটের নীচে লো-কাট ব্লাউজের ফাঁক দিয়ে দেখা যাচ্ছে বক্ষ সৌন্দর্য । খেতে খেতে পুরুষ...

বাঙালী যুবকের ফ্ল্যাটে আইরিশ ভদ্রলোক

সাঁতারুর মানিক উদ্ধার আইরিশেদের কৃপণ বলে বদনাম আছে। তেমন এক ভদ্রলোকের ছেলে পানিতে ডুবতে বসেছিল ডোভার উপকূলে । সেই সময় একটি প্রবাসী বাঙালী যুবক-জলে ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে কোন মতে উদ্ধার করে। পরদিন বাঙালী যুবকের লণ্ডনের ফ্ল্যাটে আইরিশ ভদ্রলোক চলে এলেন । এসে বললেন, আচ্ছা,...

আপনার কান দুটোর কি হল

কানাকানি নয় শ্রীমভি রায় : ( তাঁর দুষ্টু, চঞ্চল ছোট মেয়েকে ) মিঠু, এখানে আমাদের বাড়ি তোমার বাপির এক বন্ধু আসবেন, তাঁর নাম মেজর গুপ্ত, যুদ্ধে ভদ্রলোকের দুটো কানই গুলি লেগে উড়ে গেছে, তাই ওঁকে দেখে যেন জিজ্ঞেস কোর না—আঙ্কেল, আপনার কান দুটোর কি হল ?— তাহলে উনি কিন্তু...

খেয়ালি শিল্পী সালভাদোর ডালি

বন্য শিল্প খেয়ালি শিল্পী সালভাদোর ডালি একবার শখ করে পুষেছিলেন হিংস্র স্বভাবের এক ‘ওসিলট" (বাঘের মত ডোরাকাটা, অতিকায় বন বেড়াল)। সেটাকে সঙ্গে নিয়ে তিনি প্রায়ই এখানে সেখানে বেড়াতে যেতেন । একবার গেছেন গ্ৰীণউইচের (নিউইয়র্ক শহরের অভিজাত এলাকা) বিখ্যাত এক রেস্তোরাঁয় ।...

Page 3 of 24312345...102030...Last »

অলটাইম হিট