বিষয়বস্তু

নিরামিষ না আমিষ

নিরামিষ না আমিষ শান্তিনিকেতনে একবার একটি ছোট ছেলে রবীন্দ্রনাথকে চিঠি লিখে জানতে চায়--’ডিম জিনিসটাকে কেন আমিষ বলা হয়? নিরামিষ বললে কী ক্ষতি?’ কবি উত্তরে মজা করে লিখলেন, ‘ঠিকই তো, কই ডিমের গায়ের আঁশ দেখেছি বলে তো মনে হয় না। কেমন সুন্দর দিব্যি গোলগাল-খাসা আলুর মত।’ রসিক...

বৈবাহিক

বৈবাহিক সে সময় শান্তিনিকেতনের গ্রন্থাগারের দায়িতে ছিলেন রবীন্দ্রজীবনীকার প্রভাতকুমার মুখোপাধ্যায়। তিনি রাতে বাড়িতে গিয়ে পড়ার জন্য প্রতিদিন গ্রন্থাগার থেকে অনেকগুলো বই বোঝাই করে নিয়ে ফিরতেন। এমনই এক সন্ধ্যায় তিনি বেশ কয়েকটা পছন্দের বই সঙ্গে নিয়ে গ্রন্থাগার থেকে...

চরণপদ্ম

চরণপদ্ম রবীন্দ্ৰনাথ একবার তাঁর পার্সেনাল সেক্রেটারি সুধাকান্ত রায় চৌধুরীকে নিয়ে রামগড় পাহাড়ে বেড়াতে গেছেন। একদিন সকালে সুধাকান্ত দেখলেন, গুরুদেব নীচে বসে এক পায়ের মোজা খুলে হাত দিয়ে পায়ের তলাটা ঘষছেন। সুধাকান্ত জিগ্যোস করলেন, ‘গুরুদেব, কী হয়েছে?’ রবীন্দ্ৰনাথ...

কমলের প্রতি রবির উক্তি

কমলের প্রতি রবির উক্তি রবীন্দ্ৰনাথ শান্তিনিকেতনে দেহলীর ওপর থাকতেন। নীচে থাকতেন তার সম্পর্কে নাতি দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুর ও দীনুর স্ত্রী কমলা দেবী। একদিন আডল্পর আসরে রবীন্দ্ৰনাথ দীনু ঠাকুরকে বললেন, দ্যাখ দীনু, তোর ঘরের কথা প্রকাশ করে হাটে হাঁড়ি ভাঙার কোনো প্রয়োজন আছে?...

দুগ্ধপোষ্য

দুগ্ধপোষ্য গরমকালে শান্তিনিকেতন প্ৰচণ্ড গরম পড়ে। সেই কারণে অনেক শিক্ষক ও ছাত্র গরম সহ্য করতে না পেরে এই সময় বাড়ি চলে যান। ছাত্রদের জন্য বরাদ্দ দুধ এই সময় বাড়তি পড়ে থাকে। কী করা যায়! খাবার ঘরের পরিচালক নিজে এসে একদিন এ কথা জানিয়ে গেলেন রবীন্দ্রনাথকে। সব শুনে...

বিদেশের উপহার

বিদেশের উপহার সদ্য ইউরোপ ভ্ৰমণ সেরে শান্তিনিকেতনে ফিরেছেন রবীন্দ্রনাথ। দুপুরবেলা তিনি ঘুমোতেন না। বিশ্রাম নিচ্ছেন কোনার্কে। কবিকে নিরিবিলিতে পাবার আশায় শান্তিনিকেতনের অধ্যাপক বিধুশেখর শাস্ত্রী গেলেন কোনার্কে। কবি বিধুশেখরকে দেখে খুশি হয়ে ইউরোপের গল্প শোনাতে লাগলেন।...

দুধ খাওয়া দুধ মাখা

দুধ খাওয়া দুধ মাখা শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের খাসভৃত্য ছিল বনমালী। সে রবীন্দ্রনাথের দেখাশোনা করত। তার গায়ের রঙটি ছিল কুচকুচে কালো। একবার কবিপত্নী মৃণালিণী দেবী এসেছেন শান্তিনিকেতনে। এসেই তিনি নিজের কঁধে সংসারের সব দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। কবির জন্য রান্না করা, কবিকে...

মধুর কবিতা

মধুর কবিতা মংপুতে থাকাকালীন রবীন্দ্ৰনাথ ‘প্রবাসী’ পত্রিকায় মধু বিষয়ক একটি কবিতা লিখেছিলেন। এই কবিতা প্রকাশের কিছুদিন পরে মংপুতে রবীন্দ্ৰনাথের কাছে একটি পার্সেল আসে। কবি পার্সেল খুলে দেখেন তাতে এক বোতল মধু! পাঠিয়েছেন রবীন্দ্রনাথের এক অচেনা ভক্ত। মধুর বোতল উপহার পেয়ে...

হাতি কেনা দেখে

হাতি কেনা দেখে রবীন্দ্ৰনাথ একবার বিখ্যাত পরিসংখ্যানবিদ প্রশান্তচন্দ্ৰ মহলানবিশ ও তার স্ত্রী নির্মলকুমারীকে সঙ্গে নিয়ে দক্ষিণ ভারতে বেড়াতে গেছেন। সেখানে গিয়ে একদিন তিনজন বেরিয়েছেন কেনাকাটা করতে। রবীন্দ্রনাথ খানিকক্ষণ পর লক্ষ্য করলেন, নির্মলকুমারী বিভিন্ন দোকান থেকে...

ছবি আঁকা

ছবি আঁকা শান্তিনিকেতনে একদিন সকালবেলায় রবীন্দ্রনাথ ছবি আঁকছেন। পাশে দাঁড়িয়ে শান্তিনিকেতনের পণ্ডিত বিধুশেখর শাস্ত্রী মন দিয়ে ছবি আৗকা দেখছেন। আকা শেষ হতে বিধুশেখর রবীন্দ্রনাথকে জিগ্যেস করলেন, ‘শুরুদেব, এত কাজকর্ম, লেখাপড়ার মাঝে আপনি কী ভাবে ছবি আকিতে শিখলেন?’ রং-তুলি...

চাপকান

চাপকান রবীন্দ্রনাথ একবার মংপুতে গিয়ে বিখ্যাত লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে অতিথি হয়ে ছিলেন। কবি সেখানে সবাইকে সৰ্ব্বক্ষণ মাতিয়ে রাখতেন। একদিন সবার সামনে গান গাওয়া শেষ করে হঠাৎ দু'হাত দিয়ে নিজের দু’কান চেপে বললেন, ‘বলো দেখি, এটা কী?’ সকলেই অবাক! কোথাও কিছু নেই।...

বাঁদর

বাঁদর শান্তিনিকেতনে অসুস্থ রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে এসেছেন তাঁর পুত্রবধু প্রতিমা দেবী। তখন দুপুর বেলা। রবীন্দ্ৰনাথ বিছানায় শুয়ে আছেন। পাশে একটি চেয়ারে বসে প্রতিমা দেবী। দুজনে নানারকম কথাবার্তা বলছেন। রবীন্দ্রনাথ কথা বলতে বলতে হঠাৎ প্রতিমা দেবীকে বললেন, ‘বৌমা,...

পচা ডিম

পচা ডিম একদিন শান্তিনিকেতনের পাশের গ্রামের এক গৃহকর্তা নিমন্ত্রণ করলেন রবীন্দ্রনাথ ও শান্তিনিকেতনের শিক্ষকক্ষিতিমোহন সেনকে। দুই অতিথি খেতে বসেছেন। গৃহকর্তা খুটিনাটি বিষয়ে লক্ষ্য রাখছেন, অতিথিদের যাতে কোনো অসুবিধা না হয়। খাবার থালার পাশে সাজানো অনেক বাটি, তাতে বিভিন্ন...

মাতৃদায়

মাতৃদায় সালটা উনিশশো পাঁচের কিছু আগে, রবীন্দ্রনাথ তখন রীতিমত ব্যস্ত বঙ্গ ভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনে। লর্ড কার্জনের বঙ্গ ভঙ্গের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে কবি তখন লিখছেন অনেক কবিতা, অনেক গান। দলবল নিয়ে যাচ্ছেন বিভিন্ন সভা সমিতিতে। রাখিবন্ধন উৎসব করছেন। সদলবলে গান গেয়ে বেড়াচ্ছেন...

আহারে অভ্যাস বিরোধীতা

আহারে অভ্যাস বিরোধীতা রবীন্দ্ৰনাথ কী ভাবে খেতেন? তাঁর থালার পাশে বাটিতে করে বিভিন্ন পদ সাজিয়ে দেওয়া হত। খেতে বসে তিনি এটা থেকে কিছুটা, ওটা থেকে কিছুটা তুলে খেতেন। না, কোনো প্রচলিত রীতি তিনি মানতেন না খাবার সময়। তাঁর এ এক অদ্ভুত বৈশিষ্ট। তার খাওয়া দেখে অনেকেই অবাক...

ইংলণ্ডে ইংরেজি

ইংলণ্ডে ইংরেজি কবিগুরুর এক ঘনিষ্ট আত্মীয় ইংলণ্ডে গিয়ে কবিগুরুকে চিঠি লেখেন। আত্মীয়ের ইংলণ্ডে যাবার খবর শুনে একটু অবাক হলেন রবীন্দ্রনাথ। কারণ, আত্মীয়টির যা ইংরেজি বলার ধরণ! আত্মীয়টির সঙ্গে রবীন্দ্রনাথের নিয়মিত পত্র বিনিময় হত। তার ইংলণ্ডে যাবার খবর শুনে আত্মীয়টিকে মজা...

ভাল পাত্র

ভাল পাত্র রবীন্দ্রনাথ একবার মংপুতে গিয়ে মনমোহন সেনের বাড়িতে উঠেছেন। সেখানে তখন এসেছেন মনমোহনের স্ত্রী মৈত্ৰেয়ী দেবীর বোন চিত্ৰিতা দেবীও। একদিন কথায় কথায় রবীন্দ্ৰনাথের কাছে মৈত্রিয়ী দেবী জিগ্যেস করলেন, ‘গুরুদেব, আপনার চেনাজানা কোনো ভাল পাত্ৰ আছে? আসলে চিত্রিতার জন্য...

পোকার উৎপাত

পোকার উৎপাত শান্তিনিকেতনের প্রতিষ্ঠার পর রবীন্দ্ৰনাথ নিজেই ছাত্রদের পড়াতেন। একদিন ইংরেজি ক্লাসে তিনি বিখ্যাত ইংরেজ কবি শেলীর কবিতা পড়াচ্ছেন। শান্তিনিকেতনে গাছের তলায় মনোরম পরিবেশে পড়াশোনা হয়। গুরুদেব বসেছেন মাঝখানে। তার চারপাশে ছাত্রদল। সেই সময় হঠাৎ কিছু পোকার উৎপাত...

সাঁওতাল মেয়ে

সাঁওতাল মেয়ে একদিন রবীন্দ্ৰনাথ উত্তরায়ণের বারান্দার এক কোণে চেয়ার-টেবিলে বসে মগ্ন হয়ে কবিতা লিখছিলেন। বাগানে একটি সাঁওতাল মেয়ে সেই সময় ঘাস পরিস্কার করছিল। কাজ শেষ হলে বিকেলে মেয়েটি রবীন্দ্রনাথের পাশটিতে গিয়ে দাঁড়াল। মেয়েটিকে দেখে রবীন্দ্রনাথ লেখা থামিয়ে বললেন,...

মিষ-টক

মিষ-টক খাদ্যরসিক রবীন্দ্রনাথ মাঝে মাঝেই শান্তিনিকেতনে তাঁর আত্মীয় ও বন্ধুদের নিমন্ত্রণ করে খাওয়াতেন। আসলে রবীন্দ্ৰনাথ যেমন খেতে ভালবাসতেন, তেমন খাওয়াতেও ভালবাসতেন। কবিগুরুর খাসভৃত্য বনমালী এই খাবারের ব্যবস্থা করত। একবার গরমকালে রবীন্দ্রনাথের কাছে এসেছেন তাঁর আত্মীয়...

Page 3 of 24712345...102030...Last »

অলটাইম হিট