মাইকেল মধুসূদন দত্ত : Tag

বৈষ্ণব পাঠক

বৈষ্ণব পাঠক কবি মধুসূদন ‘ব্ৰজাঙ্গনা কাব্য’ রচনা করেন সুহৃদ ভূদেব-এর বিশেষ অনুরোধে। বৈষ্ণবপাঠকগণ মহাজন পদাবলীর মতো মধুসূদন রচিত প্রাণমনোহারিনী কবিতায় মুগ্ধ হয়েছিলেন। এক পরম বৈষ্ণব এতটাই মুগ্ধ হয়েছিলেন যে, তিনি সুদূর নবদ্বীপ থেকে কলকাতায় এসেছিলেন শুধুমাত্র কবি মধুসূদনকে দেখার জন্য। তিনি মধুসূদনের পরিচয় জানতেন না। কলকাতা শহরে এসে সেই বৈষ্ণব অনেক খুঁজে শেষপর্যন্ত মধুসূদনের বাড়িতে […]

আমাদের লাইন

আমাদের লাইন একদিন ‘নীলদর্পণ’ নাটকের রচয়িতা দীনবন্ধু মিত্ৰ মধুসূদনের বাড়িতে এসেছেন নাট্য-আলোচনা করতে। আলোচনা জমে উঠেছে। সেই সময় কুচবিহারের মহারাজার সঙ্গীতগুরু মাইকেলের বাড়িতে এলেন। তিনি মাইকেলের ‘শৰ্মিষ্ঠা’ নাটকে অভিনয় করছেন। মধুসূদন সেই সঙ্গীতগুরুর সঙ্গে দীনবন্ধুর আলাপ করিয়ে দিয়ে বললেন, ‘ইনি আমাদের লাইনে আছেন।’ দীনবন্ধু ভাবলেন মাইকেল যেহেতু উকিল, তাই এই সঙ্গীতগুরুর পেশাও হয়তো একই। সেইজন্য […]

শেক্‌সপীয়র ও নিউটন

শেক্‌সপীয়র ও নিউটন তখন মধুসূদন হিন্দু কলেজের ছাত্র। মেধাবী ছাত্র হলেও গণিত চর্চা তাঁর ভালো লাগতো না। তাঁর পছন্দ ছিল সাহিত্যচর্চা। একদিন ভূদেবসহ অন্য সহপাঠীদের সঙ্গে শেক্সপীয়র ও নিউটনের মধ্যে কে শ্রেষ্ঠ – তাই নিয়ে জোর তর্ক হয়। কবি মধুসূদন শেকসপীয়রের পক্ষ নিয়ে বললেন, ‘শেক্‌সপীয়র চেষ্টা করলেই নিউটন হতে পারতেন, কিন্তু নিউটন শত চেষ্টা করলেও […]

কুরুক্ষেত্র রণে

কুরুক্ষেত্র রণে ব্যারিস্টার মাইকেল মধুসূদন একদিন হাইকোর্টে যাবার জন্য ঘোড়ার গাড়িতে উঠতে গিয়ে পা পিছলে পড়ে যান এবং বেশ আঘাত পান। বেশ কিছুদিন কবিকে শয্যাশায়ী হয়ে থাকতে হয়। সিউড়ির জমিদার দাক্ষিণারঞ্জণ মুখোপাধ্যায় একদিন কবি-ব্যারিস্টার মধুসূদনকে দেখতে গিয়ে জিগ্যেস করেন, ‘কী হয়েছে?’ শয্যাশায়ী মধুসূদন হেসে উত্তর দিলেন, ‘ভগ্নউরু! কুরুক্ষেত্র রণে।’ কবির রসিকতায় জমিদার হেসে উঠলেন ও […]

শহরের বামুনপাড়া

শহরের বামুনপাড়া দীর্ঘদিন ইউরোপে থাকার পর মধুসূদন ১৮৬৭ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের প্রথম দিকে কলকাতায় ফিরে আসেন। কলকাতায় এসে কবি গবৰ্ণমেন্ট হাউসের পশ্চিম দিকে ব্যয়বহুল স্পেনসেস হােটেলে বাসস্থান ঠিক করেন। এই হােটেলে তিনি ছিলেন প্রায় আড়াই বছরের মত। কলকাতায় আসার কিছুদিন পর মধুসূদনের সঙ্গে হঠাৎ দেখা হল তার এক পুরাতন সুহৃদের সঙ্গে। বহুদিন পর দু’জনের দেখা। […]

সোনার হুঁকো

সোনার হুঁকো পাইকপাড়া রাজবাড়িতে কোনো এক সময় একজন ব্ৰাহ্মণ পণ্ডিতের মহতী সভার আয়োজন করা হয়। অতিথিদের জন্য এই সময় বহু সোনা ও রূপার হুঁকো বার করা হয়। মহাকবি মাইকেল মধুসূদনের জন্যও এলো একটা সুন্দর সোনার হুঁকো। সভা তখন বেশ জমে উঠছে। চেনা-অচেনা বিদগ্ধ ব্যক্তিবর্গের আনাগোনা সেই সভায়। মাইকেল সোনার হুঁকোতে সুখটান দিয়ে সভার পণ্ডিতদের উদ্দেশ্যে […]

মধুর সন্ধ্যা-আহ্নিক

মধুর সন্ধ্যা-আহ্নিক মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত প্রথম প্রথম যখন প্রহসন ও নাটক লেখা শুরু করেন, তখন তিনি অফিসের কাজ অর্থাৎ পুলিশ-আদালতের কাজ বোলা প্ৰায় চারটের মধ্যে পাট চুকিয়ে চলে যেতেন পাইকপাড়ার রাজবাড়িতে। কী হত সেখানে ? রাজাদের সঙ্গে তিনি সেখানে রঙ্গরসিকতা, সরস কথোপকথনে, কাব্য, নাটক বিষয়ক আলোচনা ও নাট্য রচনা করে সময় কাটাতেন। তার উপস্থিতি […]

বকুল ফুল

বকুল ফুল মধুসূদনের বাড়িতে নিয়মিত আড্ডার আসর বসত। একদিন কবি তার বাড়িতে কয়েকজন বন্ধুর সঙ্গে বাংলাদেশের কবিদের কথা আলোচনা করছিলেন। মধুকবির অত্যন্ত শ্রদ্ধা ছিল কবি কাশীরাম দাসের ওপর। আলোচনা প্রসেঙ্গ কাশীরাম দাসের কথা উঠলে মধুসূদন বলেন, ‘কাশীরাম দাসের সমান কবি আমাদের দেশে আর নাই। দেখ, ওঁর রচিত মহাভারত তে-তলাতেও পড়া হচ্ছে, দে-তলাতেও পড়া হচ্ছে। আবার […]

খাঁটি বাঙাল

খাঁটি বাঙাল মহাকবি মাইকেল একবার বেড়াতে গিয়েছিলেন ঢাকা শহরে। সেখানকারী কিছু নব্যযুবক তাঁকে একদিন আমন্ত্রণ জানান এক সাহিত্য সভায়। সেই সভায় সেই নব্যযুবকের দল মাইকেলের উদ্দেশ্যে বলেন, ‘হে কবিবর, আপনার বিদ্যাবুদ্ধি মমতা প্রভৃতির দ্বারা আমরা যেমন মহাগৌরবান্বিত হই, তেমনি আপনি ইংরেজ হইয়া গিয়াছেন শুনিয়া আমরা ভারি দুঃখিত হই। কিন্তু আপনার সঙ্গে আলাপ করা মাত্র আমাদের […]

কোকিল

কোকিল মহাকবি মাইকেল ছিলেন সুপুরুষ ও সৌখিন। তাঁর গায়ের রঙ যদিও ছিল কালো। প্রথম দিকে মধুকবির কণ্ঠস্বরটিও ছিল মধুর। কিন্তু মাদ্রাজের এক হিমশীতল জলে স্নান করে মধুকবির মধুময় কণ্ঠস্বর চিরদিনের মত বিকৃত ও ভগ্ন হয়ে যায়। একে গায়ের রঙ কালো, তার উপর ভাঙা গলা। কোনো কোনো নিন্দুক-হিংসুটে লোক। এরপর থেকে মাইকেলের ভাঙা কণ্ঠস্বর ও গায়ের […]

হরদ্বারের গঙ্গাজল

হরদ্বারের গঙ্গাজল মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত পেশায় উকিল ছিলেন। একদিন দুপুরবেলায় কাজের ফাঁকে তিনি বার-লাইব্রেরিতে বসে একটু বিশ্রাম করছিলেন। এমন সময় তাঁর এক পরিচিত উকিল বন্ধু হাসতে হাসতে এসে তাঁকে বললেন, ‘কবিমশাই, মেঘনাদবধের নরক বর্ণনাটা নিশ্চয়ই আপনি মিল্টন-এর থেকে নিয়েছেন, তাই তো ?’ খোঁচা খেয়ে উঠে বসলেন মধুকবি। একটু হেসে মহাকবি দান্তের নরকবর্ণনা থেকে কিছু […]

মেঘনাদবধ কাব্যের পাঠক

মেঘনাদবধ কাব্যের পাঠক সেই সদ্য প্রকাশিত হয়েছে ‘মেঘনাদবধ কাব্য’। একদিন মেঘনাদবধ কাব্য’-র স্রষ্টা মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত কোনো এক বিশেষ কাজের জন্য গিয়েছিলেন বাজারে। সেখানে দেখলেন এক অদ্ভুৎ দৃশ্য! কী দৃশ্য ? কবি দেখলেন এক সাধারণ দোকানদার তার সামনে বসে মন দিয়ে ‘মেঘনাদবধ, কাব্য পাঠ করছেন! কৌতুহলাবিষ্ট হয়ে রহস্যপ্রিয় কবি সেই দোকানে ঢুকে দোকনাদারকে জিগ্যোস […]

কবির সুহৃদ

কবির সুহৃদ মহাকবি মাইকেল মধুসূদন দত্ত ছিলেন ঈশ্বরচন্দ্ৰ বিদ্যাসাগরের সুহৃদ। মাইকেল মধুসূদন দত্ত একসময় খুবই আর্থিক অনটনে পড়েছিলেন। তখন তিনি বিদেশে। বিদেশে অর্থকষ্টে দিন কাটাচ্ছিলেন কবি, এই খবর কানে এল বিদ্যাসাগরের। তিনি শুধু বিদ্যাসাগর নন, দয়ারসাগারও। মাইকেলের দুর্দশার কথা শুনে তঁর মন কেঁদে উঠল। কবি বন্ধুর দুদিনে বিদ্যাসাগর মাসে মাসে টাকা পাঠিয়ে দিতেন। এই খবর […]