রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : Tag

ঢাকা খোলা

ঢাকা খোলা রবীন্দ্ৰনাথ একবার ঢাকায় গিয়েছিলেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের অতিথি হয়ে। রমেশচন্দ্র একদিন কবিকে ঢাকা শহর দেখাতে নিয়ে যান। সেই সময় ঢাকা শহরের রাস্তা ছিল সরু আর নোংরা। রমেশচন্দ্ৰ শহরের যে অংশে থাকতেন সেটা অবশ্য শহরের নতুন অংশ, নাম-রমনা। তার চারদিকে খোলা সবুজ মাঠ। প্রত্যেক বাড়ির সামনে অনেকটা ফাঁকা জমি। স্বাভাবতই নতুন এবং পুরনোর […]

সহ সম্পাদক

সহ সম্পাদক শান্তিনিকেতনে একদিন বিকেলে কবির ঘরে সাহিত্য-আলোচনা হচ্ছে। কথা প্রসঙ্গে একটি পত্রিকার নাম ওঠায় রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘হ্যাঁ, এক সময় আমি এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম।’ কবির কথা শুনে আর একজন বললেন, ‘তাই নাকি?’ তারপর সেই ব্যক্তি অন্য আর একজনের নাম উল্লেখ করে বললেন, উনি এই পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন।’ রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘সহ কি […]

নিরামিষাশী কবি

নিরামিষাশী কবি রবীন্দ্রনাথ ‘নতুন বৌঠান’ কাদম্বরী দেবী ও স্ত্রী মৃণালিণী দেবীর অকাল মৃত্যুতে বড় আঘাত পেয়েছিলেন। তাই এই দু’জনের মৃত্যুর পর কবি মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন। যদিও প্রথম বয়সে কবি মাছ-মাংস খেতে খুব ভালবাসতেন। একদিন সুধাকান্তর সঙ্গে কবির আমিষ-নিরামিষ নিয়ে জোর তর্ক বাধে। সুধাকান্ত ঘোর মাংসাশী। অন্যদিকে কবি তখন নিরামিষাশী। সুধাকান্ত একবার বাজি ধরে বাঘের […]

ডিসিশন

ডিসিশন মংপুতে থাকার সময় রবীন্দ্রনাথ একদিন লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীর স্বামী ডাক্তার মনমোহন সেনকে বললেন, ‘তোমরা সপরিবারে একবার কলকাতায় চলো।’ মনমোহন বললেন, ‘গুরুদেব, আমার এখন অনেক কাজ, এখন কী করে যাই বলুন?’ কিন্তু কবি না-ছোড়। সেই সময় ঘরে ঢুকলেন মৈত্ৰেয়ী দেবী। তাঁকে দেখে কবি বললেন, ‘ও মৈত্ৰেয়ী, তোমাদের সবার কলকাতায় যাবার ব্যবস্থা করে ফেললুম।’ একথা শুনে […]

কত রূপে এঁকেছি

কত রূপে এঁকেছি বৃদ্ধ বয়সে রবীন্দ্রনাথ ছবি আঁকার নেশায় মগ্ন হয়ে পড়েন। রানী চন্দ সেই সময় কবির কাছে এসে বসে থাকতেন। এবং প্রয়োজন মত কবিকে সাহায্য করতেন। যেমন, রঙ গুলে দেওয়া, তুলি এগিয়ে দেওয়া ইত্যাদি। কবি মাঝে মধ্যে রানী চন্দকে সামনে রবীন্দ্ৰনাথ ঠাকুরের রঙ্গ রসিকতা বসিয়ে মডেল করেও ছবি আঁকতেন। কিন্তু হয়, ছবি শেষ হলে […]

মৃণালিণীর রেসিপি

মৃণালিণীর রেসিপি খাদ্যরসিক রবীন্দ্ৰনাথ খাদ্য নিয়ে নানা রকম পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাতেন। অবশ্য ঝক্কি ঝামেলার বেশিরভাগটাই সামলাতে হত। কবিপত্নী মৃণালিণী দেবীকেই। কবি নানা ধরণের মিষ্টি খেতে পছন্দ করতেন। মৃণালিণী দেবী সেই সব মিষ্টি তৈরী করতেন। কখনো দইয়ের মালপো, চিড়ের পুলি, কখনো আমের মিঠাই। একবার কবির ‘ভাই ছুটি’ বা ‘ছোটবউ’ মৃণালিণী দেবী গজার এক নতুন সংস্করণ তৈরী করেন। […]

রাজপুত্রের ছবি

রাজপুত্রের ছবি রবিকবির সত্তরবছর পূর্তি উপলক্ষে কলকাতায় তাঁর ভক্তদল জন্মজয়ন্তী উৎসবের বিশাল আয়োজন করে। কবি সেই অনুষ্ঠানে যোগ দিতে এসে ফাঁক বুঝে কিছুক্ষণ সাত নম্বর ল্যান্সডাউন রোডে মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে কাটিয়ে আসেন। মৈত্ৰেয়ী দেবীর সেই সময় একটি বাঙালি বধূর ছবি আকিছিলেন। কবি সেই ছবি দেখে হাসতে হাসতে বলেন, ‘আমরা পুরুষেরা যখন লিখি তখন নারীদের কথা […]

কবীন্দ্ৰ

কবীন্দ্ৰ কবিগুরু একবার তার জন্মদিনে কালিম্পং-এ মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে অতিথি হয়ে আছেন। কবির জন্মদিন বলে কথা। হৈ হৈ ব্যাপার। কত লোক আসছেন। সকাল থেকে কবিকে শুভেচ্ছা জানাতে। দুপুরে পিয়ন এসে কবির নামে অনেক ডাক দিয়ে গেল। তাতে জন্মদিন সংখ্যার কিছু পত্রপত্রিকা, কিছু উপহার, কিছু চিঠি, শুভেচ্ছা, কবিতা। রবীন্দ্ৰনাথ সেগুলো দেখতে দেখতে লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীকে বললেন, […]

পদসেবা

পদসেবা রবীন্দ্ৰনাথ ১৯২৬ সালে একবার ঢাকায় গিয়েছিলেন। একদিন কবি নদীতে তুরাগ বোটে আরামকেদারায় বসে আছেন। কয়েকজন মেয়ে তাকে ঘিরে বসে। তারা কবির কাছে গান শিখছিল। কবি তাদের ‘বেদনায় ভরে গিয়েছে পেয়ালা, নিয়ো হে নিয়ো’ গানটি শেখাচ্ছিলেন। গান শেখানোর শেষে কবি মজা করে হেসে বললেন, ‘দেখো তোমার যেন গেয়োনা–বেদনায় ভরে গেছে পেয়ালা।’ কবির কথা শুনে মেয়েরা […]

আলখাল্লা

আলখাল্লা রবীন্দনাথ শান্তিনিকেতনে সচরাচর আলখাল্লা পরতেন। একবার এক বিখ্যাত ব্যক্তি শান্তিনিকেতনে আসায় তার সৌজন্যে কবি ধুতি চাদর পরেন। সুপুরুষ কবিকে ঐ সাজে সুন্দর দেখাচ্ছিল। আশ্রমের সবাই খুশি, কবিকে নতুন সাজে দেখে। এর কিছুদিন পরে হরিচরণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রী কবিকে বলেন, ‘সেদিন ধুতি চাদরে আপনাকে দারুণ লাগিছিল, গুরুদেব। আপনি কোন ধুতিচাদর পরেন না? ওতে কিন্তু আপনাকে বেশ […]

ব্রাইড মাদার

ব্রাইড মাদার রবীন্দ্ৰনাথ মাঝে মাঝেই বিদেশভ্রমণে যেতেন। কখনো একা, কখনো কাউকে সঙ্গে নিয়ে নিতেন। কবির পুত্ৰবধু প্ৰতিমা দেবী বেশ কয়েকবার কবির সঙ্গে বিদেশ ভ্ৰমণে গিয়েছিলেন। প্ৰতিমা দেবীকে কবি বিশেষ স্নেহ করতেন। কবি প্ৰতিমা দেবীকে সঙ্গে নিয়ে ভারতবর্ষের বিভিন্ন রাজ্যের বিভিন্ন শহরে ঘুরেছেন। কোনো কোনো সময় পুত্র রথীন্দ্রনাথও সঙ্গে থাকতেন। একবার কবি ভারতবর্ষের একটি শহরে নিমন্ত্রিত […]

জল সিঞ্চিত ক্ষিতি

জল সিঞ্চিত ক্ষিতি কবির অন্তরঙ্গ সুহৃদ আচাৰ্য ক্ষিতিমোহন সেনের পাণ্ডিত্য ছিল অসাধারণ। একদিন প্রচণ্ড বৃষ্টিতে ভিজে ক্ষিতিমোহন এলেন তাঁর প্রিয় কবিবন্ধুর সঙ্গে দেখা করতে। আপাদমস্তক বৃষ্টিতে ভেজা ক্ষিতিমোহনকে দেখে রবীন্দ্রনাথ রসিকতা করে বলেন— ‘ওই আসে ওই অতি ভৈরব হরষে। জল সিঞ্চিত ক্ষিতি সৌরভ রভসে।’ কবিগুরুর রসিকতায় হেসে ফেললেন বন্ধু ক্ষিতিমোহন। রবীন্দ্রনাথ সময় সুযোগ পেলেই ক্ষিতিমোহনের […]

অসাধারণ মানুষ

অসাধারণ মানুষ রবীন্দ্ৰনাথ কখনো আগে গান লিখতেন, পাবে সুর করতেন, আবার কখনো গান ও সুর এক সঙ্গে রচনা করতেন। কিন্তু সমস্যা একটাই-কবি কিছুতেই সুর মনে রাখতে পারতেন না। তাই তৈরী হওয়া সেই নতুন গান কাউকে শেখানোর জন্য তিনি চিৎকারে বাড়ি মাথায় করতেন। কাউকে শেখানো মানে, তার ওপর সুর মনে রাখার দায়িত্ব পড়ে যেত। একদিন জোড়াসাঁকোর […]

মায়া-দয়া

মায়া-দয়া রবীন্দ্রনাথের বেশিরভাগ গানের সুরকার দীনেন্দ্ৰনাথ যখন খুব ছোট, তখন কবি নতুন লেখা গানে সুর সংযোজন নিজেই করতেন এবং সুর সংযোজন করেই ডাকতেন স্নেহের ভাইপো বিখ্যাত চিত্রশিল্পী অবনীন্দ্রনাথকে। রবীন্দ্ৰনাথ সুর সংযোজন করেই ভুলে যেতেন। তাই অবনীন্দ্রনাথের ওপর সুর মনে রাখার দায়িত্ব পড়ত। অবনীন্দ্রনাথ কবির সঙ্গে এসরাজ সঙ্গত করতেন। শুধু অবনীন্দ্ৰেনাথ নন, কবি যাঁকেই প্রথম নতুন […]

চক্ষু লজ্জা

চক্ষু লজ্জা বলডুইন বা সুধাকান্ত রায়চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের নিত্যসঙ্গী। একবার সুধাকান্ত নতুন চশমা পরে কবির কাছে আসেন। কবি তার দিকে এমনভাবে তাকালেন, যেন একজন অপরিচিত মানুষ তাঁর সামনে দাঁড়িয়ে! তারপর কবি মজা করে সুধাকান্তকে জিগ্যেস করলেন, ‘ওহে সুধাকান্ত, কে তোমার চক্ষু পরীক্ষা করেছেন? আর কেই বা তোমার চোখে চশমা দিয়েছেন?’ সুধাকাস্ত উত্তর দিলেন, ‘কেন, ডাক্তারবাবু […]

মণিবাবার মাহাত্ম্য

মণিবাবার মাহাত্ম্য লেখালিখির ফাঁকে রবীন্দ্রনাথ তার খাস ভূত্য বনমালীর সঙ্গে বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গল্পগুজব করতেন। কবি মাঝে মাঝেই রঙ্গ রসিকতায় মেতে উঠতেন খাস ভূত্যের সঙ্গে। একদিন সন্ধেবেলায় কবি গল্প করছিলেন অনিল চন্দের সঙ্গে। কাছেই দাঁড়িয়েছিল বনমালী। কথা প্রসঙ্গে সাপের কথা উঠতেই বনমালী বলল, ‘জানেন বাবামশাই, আমাদের গ্রামে একজন আছে—তার নাম মণিবাবা-’ এই বলে বনমালী মণিবাবার […]

অস্থির মতি

অস্থির মতি একদিন বিকেলে রবীন্দ্রনাথ কয়েকজন পরিচিত মানুষজনের সঙ্গে বসে গল্প করছিলেন। এমন সময় সেখানে এলেন কবিপুত্র রথীন্দ্রনাথ। রথীন্দ্রনাথকে দেখে রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘ও তুই এসেছিস, ভাল কথা, কাল বিকেলে মাদ্রাজ যেতে হবে আমাকে, তুইও সঙ্গে যাবি। যা টিকিট কেটে আন।’ কথামত রথীন্দ্রনাথ কিছুক্ষণ পরে টিকিট কেটে এনে বললেন, ‘বাবামশাই, এই নিন টিকিট।’ পুত্র টিকিট কেটে […]

চ-কর

চ-কর একদিন সন্ধ্যায় রবীন্দ্রনাথের চা তেষ্টা পেয়েছে। কবি তাঁর খাসভৃত্য বনমালিকে বললেন, ‘তাড়াতাড়ি চা করে আন দেখি।’ কিন্তু বনমালীর বড্ড দেরী দেখে তিনি কপট বিরক্ত প্ৰকাশ করে বললেন, চা-কর, কিন্তু সু-কর নয়।’ এর কিছুক্ষণ পর বনমালী চা তৈরী করে নিয়ে এলে কবি কৃত্রিম রাগ প্রকাশ করে বলেন, ‘বনমালী তুই বোধহয় জানিস না যে তোর অতুলনীয় […]

বৃদ্ধ সেতু

বৃদ্ধ সেতু রবীন্দ্ৰনাথ কালিম্পং-এ লেখিকা মৈত্ৰেয়ী দেবীর সঙ্গে প্ৰথম পরিচয় করিয়ে দেন গায়ক দিলীপকুমার রায়ের সঙ্গে। দিলীপকে কবি বলেন, ‘ও দিলীপ, শোনো, এই হচ্ছে সেই মৈত্ৰেয়ী, যে তোমার গান শুনতে চায়।’ এরপর কবি মৈত্ৰেয়ীকে বলেন, ‘ও মৈয়েত্রী, এই হচ্ছে সেই দিলীপ, যে বান্ধবী বৎসল।’ এরপর কবি দুজনের মুখের দিকে তাকিয়ে বলেন, ‘মনে রেখো, তোমাদের আলাপের […]

বনমালীর উচ্চারণ

বনমালীর উচ্চারণ রবীন্দ্রনাথের খাসভৃত্য বনমালীর ভাষার সমস্যা ছিল। সে যেমন কেককে ক্যাক বলত, তেমন লম্বাকে বলত নাম্বা। কবি অনেক চেষ্টা করেন, কিন্তু কিছুতেই বনমালীকে দিয়ে সঠিক উচ্চারণ করাতে পারেন না। কবি তখন মংপুতে। ঘরে বসে কবিতা লিখছিলেন। এমন সময় মৈত্ৰেয়ী দেবীর প্রবেশ। মৈত্ৰেয়ী দেবীকে দেখেই কবি লেখা থামিয়ে হেসে বললেন, ‘কী ব্যাপার? আজি সমস্ত দিন […]

Page 1 of 41234