রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর : Tag

রসের সাগর

রসের সাগর রবীন্দ্ৰনাথ ইন্দিরা দেবীকে বিশেষ স্নেহ করতেন। ইন্দিরা দেবীও ভক্তি করতেন গুরুদেবকে। ইন্দিরা দেবী প্ৰতিদিন লরেটো কলেজে পড়তে যেতেন। তিনি যেতেন গাড়ি করে। যাবার সময় তিনি প্রতিদিন দেখতেন, বড় রাস্তার মুখে একজন সুসজ্জিত যুবক দাঁড়িয়ে। বাড়ির বড়দের নজরে এল ব্যাপারটা। কিন্তু তিনি কী করেন? কেউ যদি দাঁড়িয়ে থাকে তার দোষ কোথায়? বাড়ির সমবয়সী ভাই […]

চির কুমার

চির কুমার রবীন্দ্ৰনাথ একবার দক্ষিণাত্যে যাচ্ছিলেন। ট্রেন যাত্রার সময় বড় বড় স্টেশনে ট্রেন থামা মাত্রই ভক্তের দল কবিকে মালা পরিয়ে যাচ্ছিলেন। কবি তখন তার সঙ্গী অ্যভুজকে বললেন, ‘আমি বড় ক্লান্ত, তুমি ওদের বুঝিয়ে বল। ওদের সঙ্গে কথা বল।’ তো। তাই মেনে নিলেন অ্যাভুজ। ভোর হতেই একটা স্টেশনে ট্রেন থামল। কিছুক্ষণ পর অ্যাভুজ কবির কাছে এলেন। […]

খালি ওষুধ খায়

খালি ওষুধ খায় শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্ৰনাথ সবার দিকে সমান নজর রাখতেন। কেউ অসুস্থ হলে কবি ঠিক বুঝতে পারতেন। একদিন শৈলজারঞ্জনকে তিনি বলেন, ‘কী ব্যাপার, গলাটা ধরা ধরা লাগছে, শরীর ভাল নেই নিশ্চই।’ শৈলজারঞ্জন স্বীকার করে বলেন, ‘হ্যাঁ গুরুদেব, শরীরটা ভাল যাচ্ছে না।’ রবীন্দ্ৰনাথ তখন শৈলজারঞ্জনকে জোর করে বায়োকেমিক ওষুধ দিয়ে বলেন, নাও, এক্ষুনি খেয়ে নাও। আর […]

ভদ্রলোক

ভদ্রলোক রবীন্দ্ৰনাথ জোড়াসাঁকোয় এসেছেন শুনে তার সঙ্গে দেখা করতে এলেন হেমন্তবালা দেবী। কিন্তু যখন হেমন্তবালা এলেন, কবি তখন ঘরে ছিলেন না। কিন্তু এসেছেন যখন দেখা করেই যাবেন—এই সিদ্ধান্ত নিয়ে হেমন্তবালা দেবী কবির ঘরে বসে অপেক্ষা করতে লাগলেন। কিছুক্ষণ চুপ বসে থাকার পর হেমন্তবালা টেবিলে কবির খাতাপত্ৰ আনমনে নাড়াচাড়া করতে লাগলেন। সেই সময় কবির প্রবেশ। রবীন্দ্রনাথ […]

কবির দণ্ড

কবির দণ্ড বৃদ্ধ বয়সে রবীন্দ্রনাথ ভালভাবে হাঁটতে পারতেন না। তবু তিনি সারাদিন চুপকরে ঘরে বসে থাকতেও পারতেন না। একদিন তিনি আস্তে আস্তে হেঁটে কলাভবনে এলেন। সেখানে এসে তিনি চারদিকে তাকিয়ে বললেন, ‘কই? আমার দণ্ড কই?’ কবির কথা শুনে সবাই অবাক। গুরুদেবের হাঁটতে অসুবিধা হয় সবাই জানে, কিন্তু তিনি আবার হাতে লাঠি নিলেন কবে থেকে? সেই […]

মালাবদল

মালাবদল প্রখ্যাত শিল্পী নন্দলাল বসুর কন্যা গৌরী দেবীর সঙ্গে যখন সন্তোষ ভঞ্জের বিয়ে হয় কবি তখন খুবই অসুস্থ। বিছানা থেকে নামতে পারতেন না কবি। তিনি তখন থাকতেন উদয়ণে। । গৌরী দেবী ফুল দিয়ে চমৎকার মালা গাঁথিতেন ও অলঙ্কার তৈরী করতেন। বিয়ের পর স্বামীকে নিয়ে গৌরী দেবী কবির সঙ্গে দেখা করতে এলেন। একটি সুন্দর মালা গেথে […]

নাম চুরি

নাম চুরি রবীন্দ্ৰনাথ একবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আমন্ত্রণে ঢাকা শহরে যান এবং বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের অতিথি হন। রমেশচন্দ্রের পুত্রের বয়স নয়-দশ। তার ভাল নাম অশোক এবং ডাক নাম রবি। বাড়িতে স্বয়ং রবীন্দ্ৰনাথ এসেছেন! তাই রমেশচন্দ্ৰ বাড়ির সকলকে জানিয়ে দেন, যে ক’দিন গুরুদেব এখানে থাকবেন কেউ যেন অশোককে রবি নামে না ডাকে। পুত্রকেও সেই মত রমেশচন্দ্ৰ […]

মুখ্য সংস্করণ

মুখ্য সংস্করণ সালটা সম্ভবত ১৯৪০। রবীন্দ্রনাথ তখন অসুস্থ অবস্থায় বিশ্রাম নিচ্ছেন জোড়াসাঁকোর বাড়িতে। সেই সময় তিনি বিছানায় শোয়া অবস্থাতেই হাতমুখ ধুতেন, চুল আচড়াতেন। এ সব কাজ করিয়ে দেবার লোক ছিল। একদিন সকালে তিনি শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, অনিলকুমার চন্দ সেইসময় এলেন তাঁর সঙ্গে দেখা করতে। কবির উঠে বসার মত শারীরিক ক্ষমতা নেই, কিন্তু তবু রসিকতা করতে […]

এক গ্লাস রস

এক গ্লাস রস রবীন্দ্ৰনাথ একদিন শান্তিনিকেতনের উত্তরায়ণের বারান্দায় বসে আছেন। সেই সময় শান্তিনিকেতনের শিক্ষক আচার্য ক্ষিতিমোহন সেন কবির সঙ্গে দেখা করতে এলেন। দু’জনে বসে গল্প করছেন, এমন সময় কবির খাস ভূত্য বনমালী কবিকে একটা সুন্দর কঁচের গ্লাসে কিসের রস দিয়ে গেল, কবি তৃপ্তি ভরে সেই রস চুমুক দিয়ে খেতে লাগলেন। ক্ষিতিমোহন ভাবলেন, এ নিশ্চই দামী […]

এপ্ৰিল ফুল

এপ্ৰিল ফুল কবি অক্ষয় চৌধুরী ছিলেন রবীন্দ্রনাথের দাদা জ্যোতিরিন্দ্রনাথের বন্ধু। তবু কিশোর রবির সঙ্গে তার খুব ভাব ছিল। রবীন্দ্ৰনাথ কিশোর বয়সেই অক্ষয় চৌধুরীর সঙ্গে ইংরেজি সাহিত্য নিয়ে নানারকম আলোচনা করতেন। একবার পয়লা এপ্রিলের দিন জোড়াসাঁকো ঠাকুর বাড়িতে অক্ষয় চৌধুরীর আসার কথা। রবি আগে থেকেই জ্যোতিদাদাকে বলে রেখেছেন, আজ অক্ষয় চৌধুরীকে এপ্ৰিল ফুল করতে হবে অর্থাৎ […]

লালু

লালু রবীন্দ্রনাথ শান্তিনিকেতনে বিকেলবেলা যখন চা খেতেন, তখন একটা কুকুর রোজ তাঁর পায়ের কাছে এসে বসত। কবি তার পিঠে হাত বুলিয়ে দিতেন, আনন্দে লেজ নাড়ত কুকুরটা। রবীন্দ্রনাথ কুকুরটার নাম দিয়েছিলেন ‘লালু’। কারণ তার গায়ের রং ছিল। লাল। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, শরৎচন্দ্রের একটি কুকুর ছিল, তার নাম ‘ভেলু’। কবি চায়ের সঙ্গে মাখন পাউরুটি খেতেন এবং সেই খাবার […]

গরম লুচি স্লো পয়জন

গরম লুচি স্লো পয়জন একদিন মহাত্মা গান্ধী রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। রবীন্দ্রনাথ তখন সুরুল কুঠিবাড়িতে ‘ফাল্গুনী’ নাটক লিখছিলেন। এই বাড়িতে পরবর্তীকালে বিশিষ্ট কংগ্রেস নেতা আচাৰ্য কৃপালনী কিছুদিন ছিলেন। মহাত্মা গান্ধী আসায় খুশি রবীন্দ্রনাথ। গান্ধীজী সূর্যাস্তের আগে রাতের খাবার খেয়ে নেন। তবে খাবার বলতে অন্য সকলের মত ভাত বা রুটি নয়, বাদাম! রবীন্দ্রনাথ গল্পগুজব করে মেঝেতে […]

ঘুমের ব্যাঘাত

ঘুমের ব্যাঘাত কলকাতা থেকে কয়েকজন সাহিত্যিক রবীন্দ্ৰনাথের সঙ্গে দেখা করতে শান্তিনিকেতনে এসেছেন। কবি ক্ষিতীশকে বললেন, ‘দ্যাখো, এঁরা হলেন বিখ্যাত সাহিত্যিক, বড় সেণ্টিমেণ্টাল।  এদের যত্নের যেন ত্রুটি না হয়, তুমি লক্ষ্য রেখা।’ রাত পেরিয়ে সকাল হল। সাহিত্যিকরা রবীন্দ্রনাথের সঙ্গে দেখা করতে এলেন। রবীন্দ্ৰনাথ তাদের জিগ্যেস করলেন, ‘কাল রাত্রে ঘুম হয়েছিল? তোমরা বড খারাপ সময়ে এসেছি, যা […]

জোড়াসাঁকোর ভূত

জোড়াসাঁকোর ভূত রবীন্দ্রনাথ যখন শিলাইদহে পদ্মাবোটে স্ত্রী মৃণালিণী দেবীকে নিয়ে থাকতেন তখন এক বিধবা মহিলাকে রেখেছিলেন স্ত্রীকে সাহায্য করার জন্য। মহিলাটির একটা বাই ছিল, সে সব সময় পুরুষমানুষকে ভয় করত। কবির পদ্মাবোটে নানা লোকের যাতায়াত। আর সেটাই বড় সমস্যা মহিলাটির। এই আচরণে মনে মনে বিরক্ত হতেন মৃণালিণী দেবী। তিনি কবিকে তা জানান। কবি একদিন মহিলাটিকে […]

কনক কলস মংপুত্রে মৈত্ৰেয়ী দেবীর বাড়িতে থাকার সময় একদিন রবীন্দ্ৰনাথ গাইছিলেন— “কেন বাজাও কঁকন কণ কণ কত ছল ভরে ওগো ঘরে ফিরে চল কনক কলসে জল ভরে কেন বাজাও-কেন বাজাও কঁকন কণ কণ” এই গান গাইতে গাইতে কবি বলে উঠলেন, ‘ইস, কী বোকাই ছিলুম তখন, নাহলে এমন লিখি? তবে এখন হলে লিখতুম-যাবে তো যাও না, […]

কেমিক্যাল মিউজিক

কেমিক্যাল মিউজিক শুধুমাত্র রবীন্দ্রনাথের টানেই শৈলজারঞ্জন এম.এস.সি পরীক্ষায় রসায়নে প্রথম শ্রেণীতে প্রথম হয়েও শান্তিনিকেতনে চলে আসেন। তিনি ছিলেন রবীন্দ্রসঙ্গীতের ভক্ত। অধ্যাপনার পাশাপাশি যখন তার সংগীত চর্চ এগিয়ে চলেছে তখন কবিগুরু তাকে তুমি কী উত্তর দেবো?’ শৈলজারঞ্জন বললেন, ‘কেন, বলব। আমি অধ্যাপনা করি।’ রবীন্দ্ৰনাথ তখন বললেন, ‘অধ্যাপনা করি বলবে, কিন্তু কোন বিষয়ে অধ্যাপনা কর বলবে?’ শৈলজারঞ্জন […]

দুষ্টু যখন শান্ত

দুষ্টু যখন শান্ত শান্তিনিকেতনের আশ্রমের মেয়েরা শ্ৰীসদনের অধ্যক্ষ হেমবালা দেবীকে মাসিম বলত। মেয়েরা তাকে যেমন ভয় পেত তেমন ভালবাসত। কয়েকটি দুষ্ট মেয়ে তাকে অস্থির করে তুলত। তখন হেমবালা দেবী রবীন্দ্রনাথের কাছে বাধ্য হয়ে নালিশ করতেন। আশ্রমে গৌরী, লাবী, মালতী নামে তিনজন মেয়ে ছিল। তারা ছিল বড় দুষ্ট্র প্রকৃতির। জোড়াসাঁকোয় নটীর পূজা’ নাটকে অভিনয় করে আসার […]

ঢাকা খোলা

ঢাকা খোলা রবীন্দ্ৰনাথ একবার ঢাকায় গিয়েছিলেন বিখ্যাত ঐতিহাসিক রমেশচন্দ্র মজুমদারের অতিথি হয়ে। রমেশচন্দ্র একদিন কবিকে ঢাকা শহর দেখাতে নিয়ে যান। সেই সময় ঢাকা শহরের রাস্তা ছিল সরু আর নোংরা। রমেশচন্দ্ৰ শহরের যে অংশে থাকতেন সেটা অবশ্য শহরের নতুন অংশ, নাম-রমনা। তার চারদিকে খোলা সবুজ মাঠ। প্রত্যেক বাড়ির সামনে অনেকটা ফাঁকা জমি। স্বাভাবতই নতুন এবং পুরনোর […]

সহ সম্পাদক

সহ সম্পাদক শান্তিনিকেতনে একদিন বিকেলে কবির ঘরে সাহিত্য-আলোচনা হচ্ছে। কথা প্রসঙ্গে একটি পত্রিকার নাম ওঠায় রবীন্দ্ৰনাথ বললেন, ‘হ্যাঁ, এক সময় আমি এই পত্রিকার সম্পাদক ছিলাম।’ কবির কথা শুনে আর একজন বললেন, ‘তাই নাকি?’ তারপর সেই ব্যক্তি অন্য আর একজনের নাম উল্লেখ করে বললেন, উনি এই পত্রিকার সহ সম্পাদক ছিলেন।’ রবীন্দ্রনাথ সঙ্গে সঙ্গে বললেন, ‘সহ কি […]

নিরামিষাশী কবি

নিরামিষাশী কবি রবীন্দ্রনাথ ‘নতুন বৌঠান’ কাদম্বরী দেবী ও স্ত্রী মৃণালিণী দেবীর অকাল মৃত্যুতে বড় আঘাত পেয়েছিলেন। তাই এই দু’জনের মৃত্যুর পর কবি মাছ-মাংস খাওয়া ছেড়ে দেন। যদিও প্রথম বয়সে কবি মাছ-মাংস খেতে খুব ভালবাসতেন। একদিন সুধাকান্তর সঙ্গে কবির আমিষ-নিরামিষ নিয়ে জোর তর্ক বাধে। সুধাকান্ত ঘোর মাংসাশী। অন্যদিকে কবি তখন নিরামিষাশী। সুধাকান্ত একবার বাজি ধরে বাঘের […]

Page 1 of 512345